About

বড় অবেলায় পেয়েছি তোমায় - মেহেদী হাসান শুভ


হঠাত্‍ দেখা হতেই স্তব্ধ হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল তারা। উভয়ের চোখ জোড়াই টলমল করছে। যেন অদৃশ্য এক মন্র যাদুতে উভয়েই বশীভূত হয়ে পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে তারা। বার বার কেঁপে উঠছে হৃদয়ের স্পন্দন। বলার মত কোন ভাষা নেই তাদের। তবুও হৃদয়ে বেজে ওঠা বোবা আত্ননাদে যেন ফেটে যাচ্ছে তাদের বুকের পাজর।
`
অপলকে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকতেই উভয়ের চোখ থেকে ঝর্ণার বেগে গড়িয়ে পরল কিছু তরল পদার্থ। আর যেন স্থির থাকতে পারছে না তারা। দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতরটা। হৃদয়ে জমা কথা গুলো যেন মুখ ফেটে সব একবারেই বেরিয়ে আসতে চাইছে। কিন্তু কেউ'ই মুখ খুলতে পারছে না।
`
এভাবে একে অপরের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকতেই হঠাত্‍ চিত্‍কার দিয়ে উঠল মেয়েটি। ঝাপিয়ে পরল ছেলেটির বুকে। অঝরে কাঁন্না শুরু করল জনবহুল লোকালয়ে। কিন্তু ঐ মুহুর্তে কিছুই করার ছিলনা ছেলেটির। সে যেন পাথরের বোবা মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে শুধু।
:
মেয়েটি শক্ত করে তাকে বুকে চেপে ধরল। কিন্তু ছেলেটির হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। হঠাত্‍ মেয়েটি কাঁন্না মাখা কন্ঠে বলে উঠল,
`
=এতদিন কোথায় ছিলে শুভ? অনেক খুঁজেছি তোমায়, কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে আমায় ছেড়ে?
`
না শুভ কিছুই বলতে পারছে না। কিন্তু কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে তার। কারন তার তো আজ বলার মত কোন ভাষাই নেই। হঠাত্‍ পিছনে ইতির গর্জন শুনতে পেল শুভ। তারাতারি মেয়েটির কবল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পিছনে ফিরে তাকায় সে।
`
দেখল ইতি দাঁড়িয়ে আছে। ইতি তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কিন্তু এমন দৃশ্য দেখে ইতিও আর স্থির থাকতে পারছিল না। রাগে ও ঘৃনায় ভেঙ্গে পরছিল সে। অমনি হনহন করে বাসায় গমন করল ইতি-
`
=ইতি যেওনা প্লিজ? আমার কথাটা তো একবার শুনো?
.
না। ইতি আর কোন কথা না শুনে সোজা বাসায় চলে গেল।
`
(ঘটনাটি ঠিক বুঝতে পারেননি তাইনা? তাহলে এবার আসুন মূল গল্পে যাই)


এখানে ইতি ও শুভ স্বামী-স্ত্রী। আজ তাদের বিবাহ বার্ষিকী সেলিব্রেট করতে একটি পার্কে ঘুরতে আসে তারা। কিন্তু এখানে এসে দেখা হয় তৃতীয় পক্ষের সাথে। হ্যাঁ ঐ মেয়েটির কথাই বলছি। ওর নাম (অনু)। যার সাথে আজ থেকে প্রায় ২বছর আগে শুভর একটা ভাল সম্পর্ক ছিল।
`
যাইহোক, ঐ ব্যপারে না হয় একটু পরেই আলোচনা করি? প্রথমে এইদিকের ঘটনা শুনি,
:
:
অনেক রাত হয়েছে। প্রতিদিন শুভকে নিয়ে এক সাথে রাতের খাবার খেতো ইতি। কিন্তু আজ না খেয়ে একা একাই বিছানায় শুয়ে পরল সে। আর শুভ মাত্র একটি বার ইতির অভিমানী মুখ্খানি দেখে আবার চলে গেল রুম থেকে।
.
ঐদিকে রাতের আধারে ব্যালকুনিতে বসে পুরানো কিছু স্মৃতি মনে করতেই শুভর চোখ থেকে ঝরঝর করে অশ্রু ঝরতে লাগল। ইতিরও চোখে ঘুম নেই। প্রতিদিন শুভর বুকে মাথা রেখে ঘুমায় সে। কিন্তু আজ পাশে শুভ না থাকাতে নিজেকে খুব একা লাগছে। তাই সে আস্তে বিছানা থেকে উঠে শুভর কাছে এগিয়ে যেতে লাগল। ব্যালকুনিতে গিয়ে বাতিটা অন করতেই দেখল শুভর চোখে পানি।
:
হঠাত্‍ বুকটা কেঁপে উঠল ইতির। সাথে সাথে ঝাপিয়ে পরল শুভর বুকে। বলে উঠল-
`
=ওগো আমি কি খুব কষ্ট দিয়ে ফেলেছি তোমায়?
.
শুভ তার চোখ জোড়া মুছে নিতে ইতি আবারও বলে উঠল,
`
=ওগো আমার জন্য তুমি কষ্ট পেয়েছো? প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও? আমি আর কখনোই এমন করব না। প্লিজ ক্ষমা করে দাও?
`
কথাগুলো এক নাগারে বলতে বলতে ইতিও কেঁদে উঠল। তখন  শুভ আস্তে ইতির হাতখানি নিজের হাতে চেপে ধরে বলল,
`
=না গো! তুমি কোন কষ্ট দাওনি!
=তাহলে কাঁদছ কেন?
=তোমাকে তো আগেই বলেছি আমার একটা অতীত আছে। কিন্তু সেগুলো তুমি শুনতে চাওনি। বলেছিলে ঐসব ভুলে যেতে। তোমার ভালবাসা পেয়ে আমি সব কিছুই ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু . . . . . .
.
=কিন্তু কি? প্লিজ চুপ করে থেকো না বলো? আজ আমি সব শুনব?
=বেশ তাহলে শুনো?
:
:
:
আজ থেকে ২বছর আগের কথা। অনু নামের একটি মেয়েকে খুব ভালবাসতো শুভ। এক সাথে গান গাওয়া ও পথ চলা সহ ইত্যাদি অনেক কিছুই ছিল তাদের নিত্য দিনের কাজ। একে অপরের সাথে শেয়ার করত জীবনের চাওয়া-পাওয়া সহ সব কিছু। যেন চোখ বুজলে এখনোও ভেসে উঠে পুরোনো সেই স্মৃতি। মনে হয় এইতো সে দিনের কথা, পুকুর পাড়ে একে অপরের পাশা-পাশি বসে একই সুরে গান গাইছিল তারা-
`
চোখে রাখো চোখ
কিছু কথা হোক!
বলবে শুনবো আমি. . . (শুভ)
হাতে রাখো হাত
সারা দিন রাত!
স্বপ্নেরই পথে নামি. . . . (ইতি)
-
সুখেরি এ লগনে
তুমি আমি দুজনে
প্রেমের পৃথিবী সাজাই. . . (শুভ)
ওওওওওওও প্রিয়ো. . . .
আমি তোমার হতে চাই. . (ইতি)
-
ওওওওওওও প্রিয়ো. . . .
আমি তোমার হতে চাই. . (শুভ)
:
:
গান শেষে দুজনের মুখেই ফুটতো এক তৃপ্তির হাঁসি। আবার কখনো বা একে অপরকে নিয়ে হারিয়ে যেত দূর কোনো অজানায়। বলতো মনের কথা। ভাগা-ভাগি করে নিতো একে অপরের সুখ-দুঃখ ও ভালবাসা। এইতো সেই দিনের কথা-
`
১লা বৈশাখে অনুকে নিজ হাতে শাড়ী পড়িয়ে দিচ্ছে শুভ। শাড়ীর কুচি গুলো অনুর কোমরে গুজে দিচ্ছে। গায়ের সমস্ত কাপড় নিজ হাতে পরিয়ে মনের মত করেই সাঁজিয়ে নিচ্ছে তার সপ্নরাণী অনুকে। মাঝে মাঝে ঠোটের হালকা স্পর্শ্য এঁকে দিচ্ছে অনুর সারা দেহে। দুষ্টুমির ছলে নেয়া হচ্ছে অনুর ঠোটের টাচ্। হাঁজার চেষ্টার পরেও যেন লিপিস্টিক ছুচ্চা ছেলেটাকে ফিরাতে পারে না অনু। যেন পুরো ঘর জুড়ে থৈ থৈ করছে তৃপ্তির এক ঘন শ্বাঃষ।
`
অনুকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল শুভ। অনেক শক্ত করে বুকে চেপে ধরেছে অনুকে। এ যেন এক চরম অনূভুতির ছোয়া। সত্যিই এই অনূভুতির স্মৃতি গুলো কখনোই ভুলার নয়।
.
ঠিক সেই অবস্থাই আমাদের আজকের গল্প নায়ক শুভর।
:
:
ছোট বেলাতেই অনুর মা মারা যায়। আর বাবা ব্যবসার কাজে প্রায়ই দেশের বাহিরে থাকতেন। ঠিক এমনই একাকীত্ত মূহুর্তে শুভ এসে হাজির হয় অনুর জীবন প্রদীপ হয়ে। কাটতে থাকে তাদের আনন্দ মাখা দিন। অনেক ভালবাসা মিশ্রিত সময় কাটিয়েছে তারা। কিন্তু সেটা যেন তাদের কপালে সইল না। হঠাত্‍ এক ঝর এসে সব কিছু তছনছ করে দেয় তাদের মনের মাধুরীতে সাঁজানো স্বপ্নের রাজমহল। যেখানে তারা অনন্তকাল একসাথে থাকার আশায় তিলে তিলে স্বপ্ন বুনেছিল।
.
হঠাত্‍ একদিন অনুর বাবা দেশে ফিরেন এবং অনুকে নিয়ে আবার চলে যায়। সেখানে অনুর অজান্তেই আমেরিকান একটা ছেলের সাথে অনুর বিয়ে ঠিক করে তার বাবা। কিন্তু এই অল্প সময়ে অনু যেন কিছুই করতে পারছিল না। একটি বার শুভকেও ব্যপারটা জানানোর সুযোগ পায়নি। অনু অনেক বার তার বাবাকে বলেছে,
.
সে একজনকে ভালবাসে এবং তাকেই বিয়ে করতে চায়। কিন্তু অনুর বাবা সব কিছু উপেক্ষা করে অনুর ইচ্ছার বিরুদ্ধেই তাকে বিয়ে দেয়। অনুর বাবা তার ব্যবসায়িক স্বার্থেই মূলত এই কাজটা করেন।
.
যাইহোক, অনুর বিয়ে হয়ে গেল। আর শুভর সাথেও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ। কাঁন্না আর যন্রনায় অনুর দিন কাটে মাস যায়। অনুর প্রতি তার স্বামীর কোন কেয়ার ছিলনা। রাতে ড্রিংক করে ঘরে ফেরা ও বাজে মেয়েদের নিয়ে যৌনাচারে মেতে থাকাটাই ছিল তার নিত্য দিনের কাজ। অনু মোটেও সুখি ছিল না। মনে হচ্ছে তাকে বিক্রি করে দিয়েছে কোন নরপিচাশের কাছে। দুঃখ আর যন্রনার যেন শেষ নেই অনুর। অনেক চেষ্টা করেছে দেশে আসার জন্য কিন্তু পারেনি। অভিশপ্ত এই যন্রনা পিছু ছারেনি অনুর। দুঃখের বোঝা বইতে বইতে কেটে গেল ১টি বছর।
.
.
আর ঐদিকে অনুকে হারিয়ে প্রায় পাগল হয়ে গেল শুভ। শহরের অলি-গলি, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদি সব জায়গাতেই দিন-রাত পাগলের মত খুঁজতে থাকে অনুকে। দিন রাত রাস্তায় রাস্তায় পাগলের মত ছুটে শুভ। নিজের অজান্তেই চিত্‍কার দিয়ে কেঁদে উঠে সে। এভাবে অনুকে খুঁজতে খুঁজতে তারও কেটে যায় ১টি বছর।
.
.
শুভর এমন পাগলামি দেখে তার বাবা-মা শুভকে বিয়ে করিয়ে দেয় (ইতি) নামের একটি মেয়ের সাথে। শুভও তার জীবন থেকে অনুকে পাওয়ার আশা চিরতরে মুছে ফেলে। এমনই এক বিভীষিকাময় সময়ে ইতি এসে শুভকে আবার নতুন করে বাঁচতে শিখায়। ইতি তার সমস্ত ভালবাসা দিয়ে মনে প্রাণে ভালবেসে যায় শুভকে। ইতির ভালবাসা যেন শুভর সমস্ত দুঃখকে ভুলিয়ে তাকে আবার স্বাভাবিক করে তুলে। ধীরে ধীরে শুভও যেন পূর্বের সব স্মৃতি ভুলে নতুন করে ভালবাসতে শুরু করে ইতিকে। এ ভালবাসা যেন সত্যিই পবিত্র আর অনেক সুখের। যেখানে নেই কোন হারানোর ভয়, নেই কোন না পাওয়ার যন্রনা। অনেক সুখেই দিন কাটতে লাগল ইতি ও শুভর।
.
তাদের বিয়ের আজ ১বছর ঘুরতেই ইতির গর্ভে তৃতীয় আর একটি প্রাণের সন্ধান মিলে। আনন্দে দিশেহারা হয়ে পরে ইতি আর শুভ। শুভ বাবা হতে চলেছে আর ইতি মা। ঠিক এই আনন্দটা উপভোগ করতেই এবং তাদের বিয়ের ১ম বর্ষ পূর্তিতে একটি পার্কে ঘুরতে যায়। যেখানে আজ থেকে ২বছর আগে শুভ প্রায়ই আসত তার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে। আর আজকের এই দিনে ইতি ছাড়া তার কাছে প্রিয় মানুষ আর কেই বা হতে পারে?
.
তাইতো আজ ইতিকে নিয়ে তার সেই প্রিয় জায়গাটিতে ঘুরতে আসে সে। আর ঠিক তখনই শুভর সামনে এসে দাঁড়ায় অনু। অনু পালিয়ে এসেছে তার ঐ যন্রনাময় নরকখানা থেকে। ৬মাস ধরে অনু সকাল-বিকাল এই পার্কে এসে শুভর জন্য অপেক্ষা করে। কারন অনু জানে, শুভ একদিন না একদিন এখানে ঠিকই আসবে।
.
হ্যাঁ ঠিকই শুভ চলে আসে এবং অনুর মুখোমুখি হয়। আর তারপরেই অবেগ সমলাতে না পেরে অনু জড়িয়ে ধরে শুভকে। চিত্‍কার দিয়ে কেঁদে উঠে সবার সামনে। যা ইতিরও চোখ এরায়নি। পার্কে যে মেয়েটি শুভকে জড়িয়ে ধরতে দেখে ইতি রাগ করে বাসায় চলে আসে সেই মেয়েটিই ছিল অনু। যাকে শুভ অনেকটা ভালবাসত।
.
(এই ছিল অনুর সাথে ঘটে যাওয়া শুভর অতীতের ঘটনা)
.
এতক্ষন শুভর কাছে ঘটানাটি শুনে ইতির চোখে অশ্রু বাঁধা মানছে না। ইতি বাচ্চাদের মত চিত্‍কার দিয়ে কেঁদে উঠল শুভর বুকে। শক্ত করে বুকে চেপে ধরে কাঁদতে থাকে ইতি। যেন মনে হচ্ছে, শুভর চেয়ে ইতিই অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে ঘটনাটি শুনে। অঝরে চোখের জল ফেলতে লাগল ইতি। এই মূহুর্তে কোথায় একটু শুভকে শান্তনা দিবে তা না করে উল্টো ইতিকেই শান্তনা দিচ্ছে শুভ। ইতির চোখের জল মুছে তাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিল শুভ। হঠাত্‍ কখন যে ব্যালকুনিতেই ভোর হয়ে গেল তা আর টেরই পায়নি তারা।
.
.
সকালে হঠাত্‍ কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে তাদের। ইতি চোখ ডলতে ডলতে দরজা খুলেই হঠাত্‍ চমকে উঠল। দেখল অনু দাঁড়িয়ে আছে। অনুও বুঝেছে শুভ এখন আর তার সেই শুভ নেই। সে এখন অন্যের হয়ে গেছে। তার ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য এখন আর সে নয়। তবুও অনু ছুটে এসেছে যেন তাদের মধ্য কোন প্রকার ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়! তাই অনু হঠাত্‍ ইতির হাত জোড়া চেপে ধরে বলল,
.
(বোন আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি না জেনে হয়ত তোমাদের মধ্যে চলে এসেছি। আসলে ভুলটা আমারই। তুমি অন্তত শুভকে ভুল বুঝো না প্লিজ?)
.
কথা গুলো বলতেই অনুর চোখ থেকে গড়িয়ে পরল কিছু তরল পদার্থ। ইতি শুধু শুনেই গেল কিন্তু কিছুই বলতে পারল না। হঠাত্‍ ইতি নিজেই জড়িয়ে ধরল অনুকে। কারন রাতে সে পুরো ঘটনা শুভর কাছে শুনেছে। ইতি কেঁদে উঠল অনুকে পেয়ে। অচেনা অজানা একটি মেয়ের জন্য ইতিরও বুকটা কষ্টে মোচর দিয়ে উঠল। আজ অনুর জায়গায় ইতি থাকলে সে হয়ত সহ্যই করতে পারত না এই যন্রনা।
.
.
হঠাত্‍ কাঁন্নার শব্দ শুনে শুভ বেরিয়ে এল। তারও চোখ জোড়া লাল রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। সারাটি রাত কেঁদেছে সে। চোখের সামনে আবারও অনুকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় শুভ। হাত-পা অবশ হয়ে আসে তার। সে আর সামনে এগোতে পারে না। খুটির মত দাঁড়িয়ে থাকে সে। তবু নিজেকে সামলে নিয়ে অনুর মুখের দিকে তাকায়-
.
তারপর অনু আস্তে ইতিকে ছেড়ে ধীরে ধীরে শুভর কাছে এগিয়ে আসে। শুভ যেন থরথর করে কাঁপছে। অনু সামনে এসে শুভর মুখোমুখি দাঁড়ায়। অনু কিচ্ছুই বলল না। শুধু আঙুলের হালকা স্পর্শে শুভর চোখ জোড়া শেষ বারের মত মুছে দিল। অতঃপর চিরকালের জন্য বিদায় নিয়ে শুভর সামনে থেকে চলে গেল অনু। ইতি অনুকে ফিরাতে চায় কিন্তু পারেনা।
.
.
শুভ তার গমন পথের দিকে এক পলকে তাকিয়ে থাকতেই হঠাত্‍ চিত্‍কার দিয়ে কেঁদে উঠে। তবুও অনুকে ফিরায় না সে। অনু চলে যায় দুর সিমানায়। একদম চোখের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যায় সে। আর ঠিক তখনি শুভ দৌড়ে এসে বাচ্চাদের মত ঝাপিয়ে পরে ইতির বুকে।
.
.
=বউ আমি কিচ্ছু চাইনা, কিচ্ছু না। শুধু তোমাকে চাই, তোমাকেই ভালবাসতে চাই! তোমাকে নিয়েই অনন্তকাল থাকতে চাই।
.
কথাটি বলেই হু হু করে কেঁদে উঠে শুভ। চোখের জলে ভাসিয়ে দেয় বউয়ের বুকখানি। দুজনেই যেন অসহায়ের মত একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে।

Post a Comment

2 Comments