About

অন্যরকম প্রপোজ - মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ


-আদনানঃ দোস্ত মেয়েটাকে এমনি ভাবে কোন প্রপোজ করলে হবে না, ওকে নাকি এমনভাবে
প্রপোজ করতে হবে যা তার কল্পনার বাইরে
থাকবে। মেয়েটাকে এই নিয়ে কলেজে প্রায় ৪৯টা
ছেলে প্রপোজ করেছে, তবে সব রিজেক্ট করে
দিয়েছে বুঝলি?

-আমিঃ ও তাই নাকি!! ওকে, আমিও দেখে নেব। 
৫০তম টার্গেট আমার! প্রপোজ গ্রহণ করতেই হবে।

-আদনানঃ হুমমমম দেখ ভালো যখন লেগেছে
তখন কিভাবে পটাতে পারিস দেখ, সহযোগিতা
লাগলে আমি আছি।

কথা হলো আমি রায়হান আর আদনান এর মধ্য, আমরা ২জন কলেজ বেষ্টফ্রেন্ড ফাস্ট ইয়ার এ
পড়ছি ২জন। আর মেয়েটা যার কথা বললাম, সে
হলো  কেয়া। দেখতে খুবই মায়াবতী, নম্র, ভদ্র, সুইট আকাশপরী। মনে কোন হিংসা নেই সাধারন ভাবেই চলাফেরা করে। তবে ১টাই মেয়েটা সাধারনভাবে কোন প্রপোজ একচেপ্ট করবে না তাই কনফিউজসড।
যাকে কলেজে প্রথম থেকে কয়েকবার দেখে প্রেমে
পড়ে গিয়েছি। তাই দেরি না করে ভাবতে লাগলাম
খুব দ্রুত কিভাবে পটাতে পারি।
কেয়ার ১বান্ধবী ছিল নাম শিমু আদনানকে দিয়ে
ঐ বান্ধবীকে হাতের নাগালে আনলাম, যাতে কেয়ার
প্রিয় কি সব জানতে পারি?
কলেজ করে ফিরে এসেই রাতে প্ল্যান করে আমি আদনানকে ফোন দিলাম।

-আমিঃ হ্যালো আদনান কই তুই???

-আদনানঃ এইতো আমি ডিনার করে শুয়েছি।

-আমিঃ তোর সাথে কথা আছে শোন, আমি মেয়েটাকে পটানোর ১সপ্তাহ সময় নিয়েছি এতে আমার কিছু
তোর সহযোগিতা আর টাকা লাগবে ঐ যে আর তোর ঐদিকে বাড়ির ফুল বাগানের সামনের দিকটা খুব ভালো ঐটাই সেলেক্ট কেয়া কে পটানোর জন্য।
আর হ্যা কেয়ার পছন্দ অপছন্দ সব শিমুর কাছ
থেকে জেনে নিবি। ওকে এখন রাখি বাই গুড নাইট..তাহলে কাল থেকে শুরু করব।

-আদনানঃ ওকে ঠিক আছে দোস্ত আমি সহযোগিতা করব। ওকে গুড নাইট টু, দোস্ত।

এর মধ্য আদনানের আব্বু আম্মু কোথায় যেন বেড়াতে গেছে প্রায় ১৫দিনের জন্য। আমার সুবিধা আরো
ভালো হলো। সময়মাফিক কলেজে যাচ্ছি আর ফাকে ফাকে সব ব্যবস্থা করে নিচ্ছি, আদনান ধনী ফ্যামিলির ছেলে, তাই তাদের বাড়িঘর সবকিছু সুন্দর করে সাজানো রোমান্টিক। প্রথমে ফুল বাগানে ঘাসের উপর সুন্দর করে কেটে আই লাভ ইউ কেয়া লিখলাম।
এরপরে কেয়ার প্রিয় সব ফুচকা, কিটক্যাট, টেডি বিয়ার, নুডুলস, ইত্যাদি সব কিনে রাখলাম।
১টা চাকা সিস্টেম এর ২জনের জন্য খাওয়ার টেবিল আনলাম ভাড়া করে। সেটা ঠিক ঘাসের উপর কাটা
আই লাভ ইউ লেখার উপর রাখলাম তারপর ফুচকা নুডুলস কিটক্যাট আর জুস দিয়ে সাজালাম মাথার উপরে লাভ বেলুন দিয়ে সাজিয়ে দিলাম প্রতিটা বেলুনের ভিতর "আই লাভ ইউ কেয়া" রঙিন লেখা
দিয়ে ভরিয়ে দিলাম। ১টা খেলনা পিস্তল নিলাম যেটা দিয়ে বেলুনগুলো ফাটাবে। তারপর কিছু ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়ে খুজে নিলাম। টেডি বিয়ার কিনে তার হাতে গোলাপ ফুল লাগিয়ে দিলাম আর অন্য হাতে চিঠি যার মধ্য তাকে ভালো লাগার সব লিখলাম,অবশেষে সব শেষ। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার কলেজ বন্ধ দিল। আগের দিন তাই আদনানকে বললাম কেয়ার বান্ধবী যেন কেয়াকে নিয়ে আসে।

আমি খুব স্মার্ট হয়ে আসলাম আর কেয়া আর বান্ধবী আসবে নাকি বিকাল ৫টার সময়। এর ভিতরে আমি আদনান আর কেয়ার বান্ধবী সব প্ল্যান ঠিক করলাম, আমি টেডি বিয়ার নিয়ে দাড়িয়ে, সন্ধ্যা ও ঘনিয়ে আসতে লাগল। কেয়াকে আগেই বলা হয়েছিল যেন এসে কেয়াকে  ঐ টেবিলের দিকে পাটায় সে অন্যদিকে যাওয়ার ভান করে। অবশেষে কেয়া আসতে লাগল।
কেয়া কাছে আসতেই টেবিলটা সরিয়ে দিলাম আর উপরের বেলুনগুলো ফাটিয়ে দিল আমার বন্ধু পিস্তল দিয়ে, আর সেখান থেকে রঙিন লাভ লেখা গুলো
পড়তে লাগল সাথে সাথে বাড়া করা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে গুলো আমাদের ঘিরে ফেলল তাদের
হাতে কেয়ার প্রশংসিত, লেখা সবার হাতে বেলুন ধরা,
আর আমি হাটু ঘেড়ে বসে তাকে নির্ভয়ে প্রপোজ করলাম, মিনারের গান দিয়ে...

তুমি কি আমার ভালোবাসার চিরসাথী হবে,🎻
তুমি কি আমার কান্না দুঃখের জিবনসাথী হবে।🎸
কথা দিলাম ছাড়বো না তোমায় কোনোদিন আর🎻
আসলে আসুক ঝড় তুফান পড়ুক ধসে পাহাড়।🎶

আমি তোমাকে ভালোবাসি কেয়া,
তুমি কি আমাকে ভাসবে?💘

এটা বলেই তার দিকে টেডি বিয়ার ভয়ে ভয়ে এগিয়ে দিলাম। সে সবকিছু দেখে এমনভাবে অবাক হলো যেনো সপ্ন মনে হলো তার কাছে। কিছু না বলেই মুছকি ১টা হাসি দিয়ে নিয়ে নিল।☺
আর এদিকে আমি তার প্রপোজের ৫০তম সেঞ্চুরি
তুলে নিলাম ভালোবাসার। এরপর ২জনে বসে তার পছন্দের সব খাবার খেতে লাগলাম।

শুরু হলো রোমান্টিক ভালোবাসার পথ চলা।

Post a Comment

0 Comments