About

ভালবাসার প্রতিজ্ঞা - জান্নাতুল ফেরদৌস অনি


প্রমিলা যখন স্কুলে পড়তো আর সুমন কলেজে পড়তো তখনই তাদের চুরি করে বিয়েটা হয়েছে। কিন্তু সেটা কেউ জানতো না; কেননা তারা একজন আরেকজনের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এই কথা প্রকাশ করবেনা,সময় হলে পারিবারিকভাবে সব নিয়মকানুন মেনেই বিয়ে করবে।
যা ঘটে তা একটু হলেও রটে, প্রমিলা এবং সুমনের ক্ষেত্রেও ঠিক তা হইছে,সবাই জেনে গেছে তাদের রিলেশনের কথা কিন্তু বিয়ের কথা জানেনা কেউ।
প্রমিলার বাবার কানেও গেছে কথাটা,তিনি তার মেয়ের উপর রেগে গিয়ে তার মা"কে বকাবকি করছে। তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করার পরেও সে অস্বীকার।
আচ্ছা যাইহোক এভাবেই চলতেছে.....
প্রমিলা যখন ভার্সিটিতে উঠলো তখন সুমনের সাথে মোটামুটি আগের থেকে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে লাগলো।
সে তার ছেলে বন্ধুদের সাথে ফেসবুকে আপলোড দিতো, অথচ সুমনের সাথে কোনোদিন ছবি আপলোড দেয়নি।
প্রমিলার সাথে এই নিয়ে ঝগড়াও হয় সুমনের সাথে কিন্তু প্রমিলাকে হারানোর ভয়ে কিছু বলতো না সুমন।না জানি ঝগড়া করে ছেড়ে চলে যায়।
সুমন মাঝেমধ্যে বলতো, তুমি কি জানো আমরা বিবাহিত, তোমার সাথে আমার বিয়ে হইছে,তবুও টাচ করিনি,হাতটা পর্যন্ত ধরিনি।
সুমন বারবার এটাই বুঝাইতে চাইতো, "আমি তোমার বিয়ে করা স্বামী হয়েও এত ক্লোজ হইনি,যতটা তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে হইছো।
কিন্তু কে শুনে কার কথা, এই ধরণের কথা একবারের বেশি ২বার বললে প্রমিলা রেগে গিয়ে বলতো, তুমিকি আমাকে অবিশ্বাস কর?
কিন্তু সুমন প্রচন্ড বিশ্বাস করে,তবুও মাঝেমধ্যে খটকা লাগে,তাই মুখ ফসকে কথাগুলা বের হয়ে যায়।
যে প্রমিলা প্রত্যেকদিন খুঁটিনাটি সব প্রশ্ন করতো,সে প্রমিলা এখন "কেমন আছ?" জিজ্ঞাসা করার সময় পায় না,অনেক ব্যস্ত সে।তার নাকি পড়াশুনার অনেক চাপ।
সুমন ফোন করলে ফোন ওয়েটিং এ থাকে।রিসিভ করলেও "কেমন আছ?" জিজ্ঞাসা করেনা,শুধুমাত্র সুমনের দু -একটা কথার উত্তর দেয়।
সুমনও তো ভার্সিটিতে লেখাপড়া করতেছে সে তো এত অজুহাত দেখায় না।সময় না হওয়ার পরেও সময় খুঁজে বের করে।কারণ ভালবাসার মানুষকে ব্যস্ততা দেখাতে নেই,দেখাইলে দূরত্ব বাড়ে,ভালবাসা কমে।
সুমন প্রমিলার এড়িয়ে যাওয়াটাকে বুঝে গেছে,তাকে ভালবাসে না,বিয়ে হইছে সেটাও ভুলে গেছে।
এরপর থেকে সুমন প্রমিলাকে আর কল দেয়নি,সবকিছু থেকে ব্লক করে দিছে,কোনোভাবেই যোগাযোগ রাখেনি।যাকে সে সবচেয়ে বেশি ভালবাসতো, আজ তাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে।বিশ্বাসঘাতক হিসেবে জানে, বেঈমান বলে জানে।
৬ মাস পরে জানা গেল প্রমিলার ক্যান্সার মৃত্যু খুব নিকটবর্তী, ডাক্তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছে।
সে তার অসুখের কথা জানায় নি সুমনকে।কেননা সুমন সেটা সহ্য করতে পারবেনা।
যে ছেলে আমার একটু এড়িয়ে যাওয়া সহ্য করতে পারেনা, সে আমার মৃত্যুরবসংবাদ সহ্য করবে কিভাবে।
এই কথা সুমন জানার পর সুমন প্রমিলার সাথে দেখা করতে আসে,কিন্তু জীবিত দেখেনি মৃত প্রমিলাকে দেখেছে সুমন।
সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারতেছিল না।
প্রমিলার কবর হয়ে গেছে,আর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করলো সে আর বিয়ে করবেনা।

বয়স হয়েছে,দেখাশুনা করার কেউ নেই।তাই সেই সুমন আজ বৃদ্ধাশ্রমে। এখনও প্রমিলার কথা চিন্তা করে কাঁদে সুমন।

Post a Comment

0 Comments